ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড ৩১৫, চাপে বাংলাদেশ; দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও নেই সাদমান
সিলেট টেস্টে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন চালকের আসনে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ৩৪৫ রান সংগ্রহ করেছে ক্যারিবীয়রা। এতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে। অন্যদিকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সফরকারীরা, আর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনের খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের বোলাররা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। বিশেষ করে কাভেম হজ ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সফরকারীরা।
দিনের খেলা শেষে হজ ১৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। অন্যদিকে উইকহ্যাম ৭৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তাঁদের জুটিতে আসে দুইশ রানেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রান। ফলে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য উইকেট পাওয়াই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ৩০ রানে পিছনে রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিন বিনা উইকেটে ৭ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল সফরকারীরা। চতুর্থ দিন সকালে সেখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করেন ব্রেন্ডন কিং ও জশুয়া ডা সিলভা।
উদ্বোধনী জুটিতে দুজন যোগ করেন ৮৫ রান। এরপর তাইজুল ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ৩৬ রান করা ডা সিলভা। এতে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ।
তবে অন্য প্রান্তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান ব্রেন্ডন কিং। কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অর্ধশতকও তুলে নেন এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় উইকেটে ৩৪ রান যোগ হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কিং। তাঁর সংগ্রহ ছিল ৬১ রান।
এরপর বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও হজ ও উইকহ্যামের প্রতিরোধে তা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথম ইনিংসে পেসারদের ভালো বোলিংয়ের বিপরীতে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। দ্রুত উইকেট নিতে না পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লিড আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও অনিশ্চিত নয়, ছিটকে গেলেন সাদমান
এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মধ্যেই বাংলাদেশ শিবিরে এসেছে আরও একটি দুঃসংবাদ। গোড়ালির গুরুতর চোটের কারণে চলতি সিরিজের বাকি অংশের পাশাপাশি আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেও ছিটকে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার সাদমান ইসলাম।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে স্লাইড করার সময় গোড়ালিতে গুরুতর আঘাত পান সাদমান। পরে তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এই ওপেনারকে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাদমানের গোড়ালির লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। পাশাপাশি হাড়েও হালকা চিড় ধরা পড়েছে। এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত মাঠে ফেরা হচ্ছে না তাঁর।
আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর দুই ধাপে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। সফরে ১৫ থেকে ১৯ নভেম্বর প্রথম এবং ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাদমানের চোটের কারণে এই সফরে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না।
তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের ওপেনিং পজিশন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে নির্বাচকদের। বিকল্প ওপেনার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে সাদমানের ছিটকে যাওয়া বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
একদিকে সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় লিড, অন্যদিকে ওপেনার সাদমানের চোট—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ দল।