সংবাদ শিরোনাম

ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা, আনচেলত্তির স্কোয়াডে পাঁচ নতুন মুখ

ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের সঙ্গে জায়গা পেলেন একঝাঁক তরুণ; দলে নেই ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাসের কোনো ফুটবলার

শাহনুর রুমেন | রিও ডি জেনেইরো, ব্রাজিল
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন

খেলাধুলা

ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা, আনচেলত্তির স্কোয়াডে পাঁচ নতুন মুখ

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় তরুণদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই ধারাবাহিকতায় জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন দুই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সদর দপ্তরে ঘোষিত এই দলে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাক পেয়েছেন পাঁচ ফুটবলার।

নতুন ডাক পাওয়া খেলোয়াড়েরা হলেন করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজ, ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালান, ক্রুজেইরোর জোনাথন জেসুস এবং শাখতার দোনেৎস্কের মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানা। তাঁদের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে নতুনদের ভিড়েও তারকাদের উপস্থিতি কমেনি। স্কোয়াডে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এন্দ্রিক, বার্সেলোনার রাফিনিয়া এবং চেলসির এস্তেভাও। ঘোষিত দলের ২৬ সদস্যের মধ্যে ১৫ জনের বয়স ২৩ বছরের নিচে। অর্থাৎ, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দল গঠনের বিষয়টিও নির্বাচনে গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন পাঁচ ফুটবলারকে যাচাই করতে চান আনচেলত্তি

দল ঘোষণার পর আনচেলত্তির পরিকল্পনায় তরুণদের মূল্যায়নের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ক্লাব পর্যায়ে ভালো পারফরম্যান্স করা খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক ফুটবলে কতটা কার্যকর হতে পারেন, তা কাছ থেকে দেখতে চান ব্রাজিলের এই কোচ।

বিশেষ করে নতুনদের খেলার ধরন, কৌশলগত দক্ষতা এবং জাতীয় দলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি। তবে প্রাথমিক দলে জায়গা পাওয়া আর মূল একাদশে খেলার সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়। ম্যাচের পরিস্থিতি ও কোচের কৌশল অনুযায়ী তাঁদের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে সেলেসাও স্কোয়াড

ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এন্দ্রিক ও এস্তেভাওয়ের মতো পরিচিত মুখ থাকায় প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে দলটি। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বোর্নমাউথের রায়ান।

মাঝমাঠেও তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। ব্রুনো গিমারায়েস, আন্দ্রে সান্তোস, জোয়াও গোমেস ও মারলন গোমেসের মতো ফুটবলারদের মাধ্যমে দলটির মাঝমাঠের শক্তি ও বিকল্প বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন আনচেলত্তি।

২০২৬ বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের পরবর্তী দলীয় কাঠামো কেমন হবে, তার প্রস্তুতিও এই দল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে চান কোচ। নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনোদের সঙ্গে তাঁদের বোঝাপড়া তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাস থেকে নেই কেউ

এবারের স্কোয়াডে ব্রাজিলের জনপ্রিয় দুই ক্লাব ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাসের কোনো খেলোয়াড় না থাকাও আলোচনায় এসেছে। ঘরোয়া ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্লাবগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বিবেচনায় রেখে খেলোয়াড় নির্বাচনে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।

সিবিএফের নির্বাচক দলের পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্লাবগুলোর স্বার্থ এবং চলমান প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই দল সাজানো হয়েছে। শিরোপার লড়াইয়ে থাকা ক্লাবগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে বাড়তি চাপ তৈরি না করার বিষয়টিও সিদ্ধান্তে বিবেচিত হয়েছে।

ব্রাজিলের ঘোষিত ২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল

গোলরক্ষক: বেন্তো (আল-নাসর), লুকাস পেরি (তোরিনো), পেদ্রো মরিস্কো (কোরিতিবা)।

রক্ষণভাগ: আর্থুর দিয়াস (আতলেতিকো পারানায়েন্সে), কার্লোস অগুস্তো (ইন্টার মিলান), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস (আর্সেনাল), জাইর কুনিয়া (নটিংহাম ফরেস্ট), জোনাথন জেসুস (ক্রুজেইরো), ভান্দেরসন (মোনাকো), ভিতর রেইস (ম্যানচেস্টার সিটি), ওয়েসলি (রোমা)।

মাঝমাঠ: আন্দ্রে লুইজ (করিন্থিয়ান্স), আন্দ্রে সান্তোস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারায়েস (আর্সেনাল), দানিলো সান্তোস (বতাফোগো), গাব্রিয়েল বন্তেম্পো (সান্তোস), জোয়াও গোমেস (অ্যাস্টন ভিলা), মারলন গোমেস (শাখতার দোনেৎস্ক)।

আক্রমণভাগ: আলিসন সান্তানা (শাখতার দোনেৎস্ক), অ্যালান (ম্যানচেস্টার সিটি), এন্দ্রিক (রিয়াল মাদ্রিদ), এস্তেভাও (চেলসি), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।

১৪ ও ১৭ নভেম্বর জাপান-সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি ব্রাজিল

নভেম্বরের আন্তর্জাতিক সূচিতে প্রথমে ১৪ নভেম্বর জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এরপর ১৭ নভেম্বর স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে।

এই দুই ম্যাচে আনচেলত্তির সামনে একদিকে যেমন দলের আক্রমণ ও রক্ষণভাগের কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে, অন্যদিকে নতুনদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণেরও সুযোগ তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে নভেম্বরের এই সফর ব্রাজিলের জন্য শুধু দুটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং ভবিষ্যৎ দল গঠনের প্রস্তুতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুনদের পারফরম্যান্স এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় কেমন হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।