আম রপ্তানি ও সংরক্ষণে বড় পরিকল্পনা, বছরজুড়ে ফসল উৎপাদনে জোর কৃষিমন্ত্রীর

মো. আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ন

রাজশাহী

আম রপ্তানি ও সংরক্ষণে বড় পরিকল্পনা, বছরজুড়ে ফসল উৎপাদনে জোর কৃষিমন্ত্রীর

দেশের আম রপ্তানি বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং আমবাগানে বিকল্প ফসল চাষের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সারা বছর কৃষি উৎপাদন সচল রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরকালে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জকে দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী এলাকা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানকার আমের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানির পরিধি বাড়াতে জাপান ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারেও বাংলাদেশের আম প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আমের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ ও রপ্তানি—প্রতিটি ধাপেই গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত আম উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি।

আম রপ্তানিতে বিশেষায়িত যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ

মন্ত্রী জানান, রপ্তানির উপযোগী আম প্রস্তুত করতে জীবাণু ও পোকামাকড়মুক্তকরণে বিশেষায়িত যন্ত্রের প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ সরকার নিয়েছে।

আম পাকার আগেই যন্ত্রটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আম প্রক্রিয়াজাত করে আন্তর্জাতিক বাজারের নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। এতে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বেশ কিছু সমস্যা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী আমের মৌসুম থেকেই রপ্তানি প্রক্রিয়ার নানা প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।

আমবাগানে বিকল্প ফসলের ওপর গুরুত্ব

মতবিনিময় সভায় আমবাগানের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হয়। কৃষকদের আয় বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে আমবাগানে বিকল্প ও স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে আধুনিক পদ্ধতিতে আদা, গ্রীষ্মকালীন কাঁচামরিচ ও টমেটো চাষ সম্প্রসারণের বিষয়টি উঠে আসে। সম্ভাবনাময় কৃষি এলাকায় বহুমুখী ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

বছরজুড়ে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা

মন্ত্রী বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট মৌসুমের একটি ফসলের ওপর কৃষিকে নির্ভরশীল রাখলে কৃষকের সম্ভাব্য আয় পুরোপুরি কাজে লাগানো যায় না। তাই আমবাগান ও অন্যান্য কৃষিজমিতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এতে একদিকে কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি বছরজুড়ে দেশীয়ভাবে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি নির্ভরতাও কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি ও আম উৎপাদনকে আরও আধুনিক, বহুমুখী ও রপ্তানিমুখী করার মাধ্যমে জেলার কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।