ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র শঙ্কা, সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হলো ৪ বন্দরে
ছবি- সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক থাকতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হতে পারে ‘মুরাসু’। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরে থাকা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি আরও ঘনীভূত হতে পারে।
শনিবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, নিম্নচাপের কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ৩৯৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।
নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়া হিসেবে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।
এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার দিকে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হবে ‘মুরাসু’। নামটি প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় ‘মুরাসু’ শব্দের অর্থ ঢোল।
এর আগে ২৫ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে ‘অর্ণব’ নামে একটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এবং এর অর্থ সমুদ্র বা সাগর।