চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলিমে জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র ২ শিক্ষার্থী, পিছিয়ে ২৬ মাদ্রাসা

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন

রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলিমে জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র ২ শিক্ষার্থী, পিছিয়ে ২৬ মাদ্রাসা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলিম পরীক্ষার ফলাফলে মাদ্রাসাগুলোর দুর্বল চিত্র ফুটে উঠেছে। জেলার ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। বাকি ২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই সর্বোচ্চ ফলের দেখা পাননি। এতে জেলার মাদ্রাসা শিক্ষার সামগ্রিক মান ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, জেলার একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরবাটি হেফজুল উলুম ফায়েজা খানম কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পাশাপাশি সাধারণ বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন আরও ১৭ জন। দুই বিভাগ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ২২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, পুরো জেলায় আলিম পরীক্ষায় মাত্র দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন, আর দুজনই তাঁর প্রতিষ্ঠানের। বিষয়টি তাঁর জন্য আনন্দের। তবে জেলার সামগ্রিক ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় ভালো না হওয়ায় কিছুটা হতাশাও রয়েছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে জেলার বড় কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফলও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ৪২ জন, কানসাট সাইফুদ্দীন মেমোরিয়াল ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৬ জন এবং শিবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার যথাক্রমে ৭৩ দশমিক ৬৮, ৭২ ও ৫৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

তবে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝলঝলিয়া ইসলামী সমাজকল্যাণ আলিম মাদ্রাসায়। এ প্রতিষ্ঠানের ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে।

এ ছাড়া বরধাই চন্দপুর বাইলকাপাড়া আলিম মাদ্রাসায় পাসের হার ১৬ শতাংশ, তেলকুপি কলমদার আলিম মাদ্রাসায় ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গোয়ালবাড়ি দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খালে আলমপুর দারুস সুন্নাত আলিম মাদ্রাসায় ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

ফলাফল প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, এবার সারা দেশেই শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিত্রও তার বাইরে নয়। গত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা ও ঘাটতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হবে। পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে ফলাফলের উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করা হবে।

জেলার ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে ২৬টিতে কোনো জিপিএ-৫ না আসা এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে এনেছে।