সংবাদ শিরোনাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ি বাড়ি মিলছে ডেঙ্গুর লার্ভা, বাড়ছে ঝুঁকি

দেড় মাস ধরে অভিযান, ২ নম্বর ওয়ার্ডে শতাধিক বাড়িতে লার্ভা শনাক্তের তথ্য; প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব

মোঃ আশরাফুল ইসলাম | চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

রাজশাহী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ি বাড়ি মিলছে ডেঙ্গুর লার্ভা, বাড়ছে ঝুঁকি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে পাওয়া যাচ্ছে এডিস মশার লার্ভা। কোথাও ড্রামে জমিয়ে রাখা বৃষ্টির পানিতে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্রে জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গুর বাহক এ মশা। এতে শহরজুড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির উদ্যোগে গত দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক প্রচার ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তোফিকুল ইসলাম, রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যমতে, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০ থেকে ১০০টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই দিনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরামবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০টি বাড়িতে লার্ভার সন্ধান পাওয়া গেছে।

অভিযানে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা বা ছাদে রাখা ড্রামে প্রায় এক মাস ধরে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়েছে। দীর্ঘদিন পানি পরিবর্তন না করা এবং পাত্র পরিষ্কার না রাখার কারণে এসব স্থান মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে ড্রেনের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। তবে শুধু সড়ক বা ড্রেন পরিষ্কার রাখলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমবে না। প্রতিটি বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

অভিযানে বাড়ির ভেতরেই লার্ভা পাওয়ার বিষয়টি নাগরিকদের দায়িত্বের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। তাই শুধু প্রশাসন বা পৌরসভার উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি, ফুলের টবের নিচের পাত্র, পানির ড্রাম, পুরোনো টায়ার, পরিত্যক্ত বোতল ও অন্যান্য পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিষ্কার করাও জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু অভিযান বা প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন প্রতিটি পরিবারের সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই নিজের ঘর থেকেই পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।