পাবনা-৩ বড় ভাই ট্রাকে, ছোট ভাই ঘোড়ায়,বোন ধানের শীষে
মোঃ আশরাফুল ইসলাম (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে এক পরিবারের তিন ভাই-বোন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন (ধানের শীষ)। এই বিষয় কেন্দ্র করে এ আসনে একই পরিবারের তিন ভাই-বোন তিন মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন। তারা হলেন- চাটমোহর উপজেলা বিএনপির প্রয়াত নেতা হাজী আক্কাছ আলী মাস্টারের বড় ছেলে হাসানুল ইসলাম রাজা, ছোট পুত্র মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা এবং বড় মেয়ে অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা।
তাদের একজন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সমাজসেবক হাসানুল ইসলাম রাজা। যিনি ধানের শীষের ভোট চেয়ে বঞ্চিত হয়ে গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরবর্তী বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে প্রচার শুরু করেন তিনি। এ অবস্থায় আসনটি থেকে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপরদিকে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র সদস্য বহিস্কৃত মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত সব আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীকে সংগঠিত করতে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের কারণে একাধিক মামলার শিকার হয়ে জেলে যেতে হয়েছে। তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দিলে তার কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য,সাবেক এমপি আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলামের সাথে যৌথভাবে মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু বিএনপি তুহিনের দলীয় প্রার্থিতা বহাল রাখে। হীরা বিএনপি'র বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলামের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে আগামী নির্বাচনের জন্য ভোট প্রার্থনা এবং প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সম্প্রতি দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারনে তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
অপরদিকে পরিবারের আরেক সদস্য অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা ৯০’র দশক থেকে ঢাকায় প্রথমে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদল এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকায় আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আওয়ামী সরকারের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবাস করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি'র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় ঘোষিত সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছেন। চাটমোহরের স্থানীয় রাজনীতিতেও তিনি ইতোমধ্যে একটি অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন। তিনি নির্বাচনে এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে মনোনয়ন দিলে রুমা তাকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি দলীয় প্রার্থী তুহিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হিসেবে পাবনা-৩ এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ভোটারদের জাগরণে ইতোমধ্যেই ইতিবাচক সাড়া ফেলেছেন।
এদিকে তিন ভাই-বোন তিন মেরুতে অবস্থান করার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে চাটমোহরে বিএনপির রাজনীতিতে প্রকাশ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে।
এছাড়াও পাবনা-৩ আসনে জামায়াতের মাওলানা আলী আছগার (দাঁড়িপাল্লা),জাতীয় পার্টির মীর নাদিম মোহাম্মদ ডাবলু (লাঙ্গল), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য),বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী (ঈগল),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল খালেক (হাতপাখা) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।