সংবাদ শিরোনাম

রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে -আলী রীয়াজ

 প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে   -আলী রীয়াজ

রাজশাহী, ১৯ মাঘ (০২ ফেব্রুয়ারি):

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, লাগামহীন ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। তাই এ সনদে থাকা পরিবর্তনের বার্তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এ সভার আয়োজন করে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড়লাখ শিক্ষার্থী আছেন, তাঁরা প্রত্যেকে যদি পাঁচজন মানুষকে পরিবর্তনের জন্য হ্যাঁ-তে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাহলে সাড়ে সাত লাখ মানুষের রায় আসবে। এছাড়া, এক লাখের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তাঁরা আরো পাঁচ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।

আলী রীয়াজ বলেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচার যাতে আর জাতির ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে, কোন ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কবলে মানুষ যাতে আর নিপীড়িত না হয় সেজন্য জুলাই সনদের কথাগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ৫৪ বছরে অসংখ্য শহিদের রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগ এসেছে হেলায় তা হারাতে দেয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচিত সরকারই ৪২ শতাংশের অধিক ভোট পায় নি। সংস্কার প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতে ১০০টি আসন থাকবে। অর্থাৎ যে দল মোট ভোটের মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু সরকার গঠন করতে পারে নি, তারও সংসদের উচ্চকক্ষে ৫ জন প্রতিনিধি থাকবে। আর সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিস্বার্থে সংবিধান পরিবর্তনের ছেলেখেলা বন্ধ হবে।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই সব হতো। সংবিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। অথচ বলা হয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ-এসব রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পদায়ন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এগুলো অতীতে সরকার প্রধানের ইচ্ছা অনুসারেই হতো। এর মানে বিদ্যমান সংবিধানেই স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ খোলা আছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু এতোদিন সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি, যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে বন্দি না হয়ে পড়ে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্যা, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম ছায়েদুর রহমান প্রমুখ।

#