সংবাদ শিরোনাম

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াত লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

 প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন   |   রাজশাহী

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি ও জামায়াত লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

 সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসনে প্রচারণা এখন তুঙ্গে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও মাঠে ময়দানে সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষের মাঝে শুধু ভোট নিয়ে চলছে হিসাব নিকাশ। এবার এ আসনে আওযামীলীগ মাঠে নেই। তবে বিভিন্ন দলের ছয়জন প্রার্থী মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন।

এরা হলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রবীন ও ছয়বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: শাহজাহান আলি মিঞা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামের নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ড.মাওলানা কেরামত আলি, লাঙ্গল প্রতীক নিযে, জাতীয় পার্টির নেতা আফজাল হোসেন, ছড়ি প্রতীক নিযে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নেতা আব্দুল হালিম, হাতপাখা প্রতীক নিযে ইসলামী আন্দোলনের নেতা মনিরুল ইসলাম, মোমবাতি প্রতীক নিযে ইসলামী ফ্রন্টের নেতা শামসুল হোদা। তবে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্যকেউ তেমন মাঠে নেই বললেই চলে।

এ আসনটিতে রয়েছে সোনামসজিদ স্থল বন্দর, আম সহ, কৃষি, পদ্মার ভাঙ্গন, শিক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ আসন এটি। ১২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইইনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা হলো পাঁচ লাখ ১৮১জন। পুরুষ ভোটার হলো দুই লাখ ৫৫হাজার ৩১৬জন এবং মহিলা ভোটার দুই লাখ ৪৪হাজার ৮৬৫জন। নতুন ভোটর ২৭ হাজার ৮৯৯ এবং তরুণ ভোটার হলো এক লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭ জন। ভোট কেন্দ্র আছে ১৫৯টি এবং কক্ষ আছে ৯৩৬। এ আসনটি ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আলীগের দখলে ছিল। জাতীয় পার্র্টির আমলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। জামায়াত কোনদিনই এ আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। এবার চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত। হঠাৎ করে পাঁচ আগস্টের পর থেকে জামায়াত ইসলাম যেখানে সেখানে গজিয়ে উঠেছে। যা বিএনপিকে কিছুটা হলেও বিব্রতকর অবস্থার মাঝে ফেলেছে।

জামায়াত ইসলামের প্রবীনতম নেতা রাজশাহী,মহানগরের আমীর শান্ত শিষ্ট ও মিষ্টভাষী ড. মাওলানা কেরামত আলি তার বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং শিবগঞ্জের নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মান, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আমসহ কৃষি বিভাগকে ঢালাওভাবে সাজানো সহ সকল সমস্যার সমাধান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। তাছাড়া ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ধর্মভীরু নারীদের ভোট আদায় করতে অভিনব কায়দায় প্রতিটি গ্রামে মহিলা তাফসিরের অজুহাতে শত শত মহিলাকে কর্মী হিসাবে ব্যবহার করে জামায়াত ইসলামই একমাত্র দল যা পরকালের জন্য পরিত্রানের ব্যবস্থা করতে পারবে বলে প্রচারণা চালিযে মহিলাদের ভোট আদায়ের চেষ্টা করছে। যা এক ধরণের জান্নাতের টিকিট বিক্রী করার সামিল বরে নিরপেক্ষ ভোটারদের অভিমত। তবে জামায়াত ইসলামী সমর্থিত দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী মাওলানা ড. কেরামত আলি জান্নাতের টিকিট বিক্রী করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাধারণে মানুষের আগ্রহ ও উৎসাহে আল্লাহর রহমতে জামায়াত ইসলামের শতভাগ পাশের সম্ভবনা দেথে বিরোধী দল অর্থাৎ বিএনপি আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা ১২ ফেব্রয়ারী প্রামানিত হবে।

অন্যদিকে বিএনপি প্রবীনতম নেতা ও ১৯৭৯ সাল ২০০৫ সাল পর্যন্ত পর পর ছয়বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপাক মো: শাহজাহান আলি মিঞা তার দীর্ঘদিনে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে মাঠে কাজ করে দলকে সম্পুর্ণ গুছিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের শত শত কর্মী পদ্মার ভাঙ্গন এলাকা সহ প্রত্যান্ত অঞ্চরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে মানুষের মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান আলি মিঞা তার অভিনব কায়দায় ধানের শীষের প্রতীকে ৭১ এর রণাঙ্গনের সহযোদ্ধা ও তার সন্তানদের, তার শিক্ষকতা জীবনের সহপাঠি ও সাবেক ছাত্রদের নির্বাচনী প্রচারণায় নামাতে সক্ষম হযেছেন।

তাছাড়া এ আসনে দুই প্রার্থীর মধ্যে পাশ ফেল অনেকটা নির্ভর করছে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে না পাওয়া আওযামীগের সাধারণ ভোটারদের উপর। সরজমিনে ঘুরে দেখা ও মানুষের সাথে কথা বলে কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে যে আওয়ামীলীগ সমর্থকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষা করতে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভোট দিবেন। তবে অন্যদিকে বিএনপির মধ্যে বাহ্যিক দৃষ্টিতে কোন লবিং গ্রুপিং না থাকলেও একটি গ্রুপ গোপণে জামায়াতের পক্ষে কাজ বলে জানা গেছে।

এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান আলি মিঞা,পদ্মার ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মান, ভঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষকে পৃর্ণবাসন, সোনামসজিদ স্থল বন্দরকে আরো প্রসারিত করে বেকার যুবকদের কাজে লাগানো, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন, আম সহ কৃষির উন্নয়ন,বেকার সমস্যার সমাধান, মাদক রোধ ও বাল্য বিয়ে বন্ধ সহ নানাবিধ উন্নয়ন করে শিবগঞ্জ উপজেলাকে একটি মর্ডান উপজেলা হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটা প্রার্থনা করে চলেছেন।

শিবগঞ্জ আসনে শুধু একবার মাওলানা কেরামত আলি উপজেলা চেযারম্যান নির্বাচিত হওয়া ছাড়া কোন নজির নেই। তবে বর্তমানে তাদের ভাষ্য বিগত ৫৪ বছর অনেক অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছি। তিনি বলেন, মানুষ দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। দাঁড়িপাল্লায়য় ভোট দিয়ে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত ইসলামের বিজয়ী হয়ে তার অবসান ঘটাবে ইনশাল্লাহ।

অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান আলি মিঞা ছয়বারের নির্বাচিত হওযার সুত্র ধরে শিবগঞ্জে অতি পরিচিত মুখ হিসাবে বিএনপি ্ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসাবে নিজের অবস্থানকে ধরে রাখতে চাই। সব মিলিয়ে পর্যবেক্ষকদের মতে এবারের নির্বাচনে মানুষ বেছে নিবে জামাযাত ইসলামকে ধর্ম ভিরু মানুষ ভোট দিযে ৫৪ বছরের ইতিহাস পরিবর্তন করার সুযোগ দিবে, নাকি বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিযে মুক্তিযুদ্বের চেতনাকে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে দেশ গড়া তোলার সুযোগ দিবে।