সংবাদ শিরোনাম

মানচিত্রের ইতিহাস বর্ণনা

 প্রকাশ: ০১ মে ২০২৫, ০৯:৪১ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মানচিত্রের ইতিহাস বর্ণনা

মানচিত্র ইংরেজিতে 'ম্যাপ' (Map) নামে পরিচিত বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন মোল্লা (maya) শব্দ থেকে ইংরেজি 'ম্যাগ' (map) শব্দের উৎপত্তি। মাপা শব্দের মূল অর্থ কাপড়ের টুকরা। আগেকার দিনে কাপড়ের উপরেই ম্যাপ বা মানচিত্র আঁকা হত।

মানচিত্র বললেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে একটি দেশ একটি এলাকা তথা একটি ভূখন্ডের চিত্র, অথবা একটি মহাদেশ কিংবা গোটা পৃথিবী। যাতে আবার প্রাসঙ্গিক তথ্য উপাত্তের সমাহারও থাকে। মানচিত্রের ব্যবহার প্রথম কবে, কোথায় শুরু হয়েছিল সে কথা দিনক্ষণ নির্দেশ করে বলা কঠিন। এর ইতিহাস প্রায় সভ্যতার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন। ২ খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ২৩০০ বছর আগে যে মানচিত্রটি পাওয়া গেছে, সেটিই এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো মানচিত্র হিসেবে স্বীকৃত। সাত সেন্টিমিটার চওড়া, আট সেন্টিমিটার লম্বা মাটির ফলকে তৈরি এই মানচিত্রটি ব্যাবিলনের গাসুর শহরের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া যায়। আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমেটিক মিউজিয়ামে এটি রক্ষিত আছে। ধারণা করা হয় ব্যাবিলনীয়রা এই মানচিত্র তাদের প্রশাসনিক কাজে রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহার করতেন। তবে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান হল ভূগোলককে ৩৬০ ডিগ্রিতে ভাগ করার প্রথা চালু করা। এ কারণেই ভূগোলকের এক এক ডিগ্রিকে ৬০ মিনিট এবং এক এক মিনিটকে ৬০ সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পাশাপাশি মিশরীয় সভ্যতাও মানচিত্রের সঙ্গে পরিচয় ছিল। প্রত্যেক বছরেই নীল নদের ধারে চাষের জমির সীমা বন্যার পানিতে পলি পড়ে ঢেকে যেত বলে মিশরীয়রা জমির সীমার মানচিত্র তৈরি করে রাখতেন। বর্তমানে রাজম বিভাগের তৈরি জমির খতিয়ান বা দাগ নম্বরসহ মৌজার যে মানচিত্র আমরা দেখি, তা মিশরের সেই আদি মানচিত্রেরই আধুনিক রূপ। ব্যাবিলনীয় বা মিশরীয় সভ্যতার মানুষেরা মানচিত্রের আদি রূপকার হলেও ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রাগৈতিহাসিক মানুষ অর্থাৎ গুহাবাসী মানুষের মধ্যেই মানচিত্র তৈরির প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল। দক্ষিণ আমেরিকার ইনআকা সভ্যতার মানুষ পাথরের গায়ে এবং কাদামাটির উপর আঁচড় কেটে একে অপরের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করত। এদিক থেকে বিবেচনা করলে ভাষা তৈরির অনেক আগেই মানচিত্র মানুষের ভাব প্রকাশের অপরিহার্য মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। আবার প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপের আদিম অধিবাসীরা প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে মহাসমুদ্রে অসংখ্য দ্বীপের অবস্থান, সমুদ্রে ঢেউয়ের গতিপ্রকৃতি দেখাবার জন্য খেজুর পাতার শিরা এবং ঝিনুক দিয়ে নিজেদের মানচিত্র তৈরি করত। এস্কিমোরা সীল মাছের চামড়া টান টান করে মেলে তার উপর কাঠের পাতলা টুকরো লাগিয়ে তাদের দ্বীপের অবস্থান বোঝাবার চেষ্টা করে এসেছে।