অস্ট্রেলিয়ায় প্রোটেকশন ভিসা আবেদনকারীদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন বিধিনিষেধ

অনলাইন ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক

অস্ট্রেলিয়ায় প্রোটেকশন ভিসা আবেদনকারীদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন বিধিনিষেধ

অস্ট্রেলিয়ায় প্রোটেকশন ভিসার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির এসব আবেদনকারীর জন্য নতুন করে ব্রিজিং ভিসা বি (BVB) পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা এই ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে বিদেশ ভ্রমণ করে আবার দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রোটেকশন ভিসা (সাবক্লাস ৮৬৬) সংক্রান্ত হালনাগাদ নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নিয়মের ফলে যেসব অভিবাসনপ্রত্যাশী দীর্ঘদিন ধরে প্রোটেকশন ভিসার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া কিংবা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তাঁদের জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া ছাড়লে কি আবার ফেরা যাবে

অস্ট্রেলিয়ায় ব্রিজিং ভিসা এ (BVA) এবং ব্রিজিং ভিসা বি (BVB)-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ব্রিজিং ভিসা এ সাধারণত নির্দিষ্ট শর্তে অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে অবস্থানের সুযোগ দেয়। তবে এটি দিয়ে বিদেশ ভ্রমণ শেষে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা যায় না।

অন্যদিকে, ব্রিজিং ভিসা বি নির্ধারিত সময়সীমা ও শর্তের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ এবং পুনরায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। তবে নতুন বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত প্রোটেকশন ভিসা আবেদনকারীরা ১ নভেম্বর থেকে নতুন করে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তাই সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের বর্তমান ভিসার ধরন, ভ্রমণের অনুমতি এবং পুনরায় প্রবেশের শর্ত যাচাই না করে অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

১ নভেম্বরের আগে আবেদন করলে কী হবে?

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার আগে ব্রিজিং ভিসা বি-এর জন্য আবেদন জমা দেওয়া ব্যক্তিদের আবেদন নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, ১ নভেম্বরের আগে আবেদন জমা দেওয়ার কারণে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে—এমন নয়। তবে আবেদন করলেই ভিসা অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য শর্ত যাচাই করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

এ কারণে আগে আবেদন করে থাকলে আবেদনের রসিদ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং অভিবাসন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

আগে থেকেই যাঁদের ব্রিজিং ভিসা বি রয়েছে

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে আগে অনুমোদিত সব ব্রিজিং ভিসা বি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। বিদ্যমান ভিসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত শর্ত ও ভ্রমণের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অনুমোদিত ভ্রমণসীমা শেষ হয়ে গেলে ওই ভিসার ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় পুনরায় প্রবেশ করা যাবে না। একইভাবে, নতুন বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত কেউ ভ্রমণের অনুমতি শেষ হওয়ার পর নতুন ব্রিজিং ভিসা বি পাবেন কি না, সে বিষয়ে প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।

তাই আগে ভ্রমণের অনুমতি পেয়েছেন বলে ভবিষ্যতেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের বাড়তি উদ্বেগ

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের একটি অংশ প্রোটেকশন ভিসার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের অনেকের বাবা-মা, ভাইবোনসহ নিকটাত্মীয় বাংলাদেশে বসবাস করেন।

পরিবারের কারও গুরুতর অসুস্থতা, মৃত্যু কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণেও বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

নতুন বিধিনিষেধের ফলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের জন্য এসব পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভিসার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে বর্তমান নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ভ্রমণের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

প্রোটেকশন ভিসার আবেদনকারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রথমত, নিজের বর্তমান ভিসার ধরন ও শর্ত যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্রিজিং ভিসা বি থাকলে এর অনুমোদিত ভ্রমণসীমা এবং পুনরায় প্রবেশের শেষ তারিখ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ভিসার আবেদন বা পর্যালোচনা চলমান থাকলে দেশ ছাড়ার আগে নিবন্ধিত মাইগ্রেশন এজেন্ট অথবা অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এ ছাড়া ১ নভেম্বরের আগে আবেদন জমা দিয়ে থাকলে সেটির বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। শুধু মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বিদেশ ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিষয়ক নিয়ম ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা এবং নিজের ভিসার শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।