বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান, গুরুত্ব পাবে শিল্প ও জ্বালানি
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে জাপান। দুই দেশের সরকারপ্রধানের সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিনিয়োগকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলার কৌশলগত বিবেচনাও জাপানের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগের সম্ভাব্য গন্তব্য শিল্প ও জ্বালানি খাত
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের আওতায় বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত অগ্রাধিকার পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদন, বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, এ ধরনের বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্পের সম্প্রসারণ, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে এর প্রভাবের ওপর।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ বিভিন্ন অংশীদারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, রপ্তানিমুখী উৎপাদন এবং স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পথও প্রসারিত করতে পারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের চুক্তি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, জাপানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের চূড়ান্ত ঘোষণা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরই উদ্যোগটির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।
সূত্র: নিক্কেই এশিয়া