ফ্রান্সের পর ইতালিতে বিক্ষোভ-সহিংসতা, মিলানে ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি
ছবি- সংগৃহীত
ফ্রান্সের পর এবার ইতালিতেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ-সহিংসতা। সরকারি পরিষেবার দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতালির মিলান শহরে টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। নিরাপত্তা উদ্বেগে শহরের বিলাসবহুল দোকানগুলো আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর প্রকাশ করেছে।
সোমবার ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মিলানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী বছর ইতালিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার মন্ত্রী ও নিরাপত্তাপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আরেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সহিংসতা থেকে বিরত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিলাসবহুল দোকানগুলোতে সতর্কতা
মিলানের ভিয়া মন্তেনাপোলিওনে এলাকার বিলাসবহুল বিপণিবিতানে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্যানেল, টিফানি ও ডিওরের মতো ব্র্যান্ডগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রদর্শনীর পণ্য সরিয়ে নিয়েছে।
সপ্তাহান্তে শত শত মুখঢাকা বিক্ষোভকারী শহরের কেন্দ্রে ডাস্টবিনে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালায়। বিক্ষোভকারীদের অনেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টেলিভিশন ফুটেজে স্পোর্টস পণ্যের খুচরা বিক্রেতা ডেকাথলন, আর্কটেরিক্স এবং মোবাইল অপারেটর ভোডাফোনের দোকানে ভাঙচুরের চিত্র দেখা গেছে। লেভিস, আন্ডার আর্মার ও ডেকাথলন তাদের দোকানের কাচ পিচবোর্ড ও কাঠের প্যানেল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে।
ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, রোববার মিলানে বিক্ষোভের সময় ২৭১ জন তরুণকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে শনিবার বোলোনিয়া, ব্রেসিয়া, বেরগামো ও তুরিনসহ উত্তর ইতালির বিভিন্ন শহরেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। তুরিনে ২৮ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের বিস্তার ও সহিংসতার ঘটনায় ইতালির বিভিন্ন শহরে জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কী ধরনের অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।