উপকূলীয় দুই জেলার প্রায় দশ লাখ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ দ্বিমুখী সংকটে বিপর্যস্ত
মাসুদ আল হাসান, খুলনা :
একদিকে নদীপথে জলদস্যুদের উৎপাত, অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি। উপকূলবাসীর বড় একটি অংশ চিংড়ি চাষি ও বননির্ভর শ্রমজীবী মানুষ, যাদের জীবিকা সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক। তাদের জন্য প্রতিটি দিন যেন ঝুঁকির সঙ্গে সমঝোতার নাম—দূরবর্তী নদীপথে সক্রিয় সশস্ত্র দস্যুদের হুমকি যেমন আছে, তেমনি রয়েছে দরিদ্রবিরোধী বাজার ব্যবস্থার চাপ।
ক্রমাগত সরকার পরিবর্তনের পরও টেকসই বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রণোদনার নানা প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও, স্থানীয়দের অভিযোগ—বাস্তবে তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। জাঁকজমকপূর্ণ ঘোষণা ও সীমিত প্রণোদনা প্যাকেজ তাদেরকে চাঁদাবাজি, অনিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির নিরন্তর চাপ থেকে রক্ষা করতে পারেনি। অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনায় চিহ্নিত তাদের জীবন যেন অবহেলার দীর্ঘ ইতিহাস।
ঈদ ঘনিয়ে এলেও এসব নাজুক পরিবারের ঘরে উৎসবের আমেজ নেই। আনন্দের প্রস্তুতির বদলে তারা শঙ্কিত—খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর উচ্চমূল্য তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়াবে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলাসহ সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও তালা উপজেলার বাসিন্দারা বলছেন—বাজার কারসাজি ও দুর্বল তদারকির মূল বোঝা তাদেরই কাঁধে এসে পড়ছে।
নদীপথের দস্যুতা ও অস্থির বাজার ব্যবস্থার মাঝে আটকে পড়া এসব উপকূলীয় মানুষের কাছে এখন কেবল টিকে থাকা যথেষ্ট নয়। তারা চায় কার্যকর নিরাপত্তা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং এমন নীতিমালা—যা কথার ফুলঝুরি নয়, বরং বন ও সাগরনির্ভর জীবনের সঙ্গে জড়িত মানুষদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা সত্যিকার অর্থে পুনরুদ্ধার করবে।