সোনাডাঙ্গা বাইপাসে দুর্ভোগ চরমে, সমন্বিত সংস্কার দাবি
মাসুদ আল হাসান, খুলনা :
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থেকে জয়বাংলা মোড় পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ‘সোনাডাঙ্গা বাইপাস’ নামে পরিচিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এটি খুলনাকে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, ঢাকা ও বরিশালসহ প্রায় ১৮টি জেলার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। তবে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে সড়কটি খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
২০১১ সালে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) প্রায় ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করে এবং ২০১৩ সালে তা সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে সড়কের অংশবিশেষ খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে দায়িত্ব বিভাজন ও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার সৃষ্টি হয়, যা স্থায়ী সংস্কার কার্যক্রমকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রেখেছে।
বর্তমানে ময়ূর নদীর পূর্ব পাশের অংশ কেসিসির এবং পশ্চিম পাশ এলজিইডির অধীনে। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার সামনে থেকে ময়ূর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৭৮০ মিটার অংশ জমি জটিলতার কারণে প্রশস্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্ষায় পানি জমে সড়কটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে, ফলে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে ইট-বালু ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হলেও তা টেকসই সমাধান দিচ্ছে না।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলচালকরা গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। ধুলাবালি ও অপরিকল্পিত নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে থাকায় বায়ুদূষণও বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষায় জমে থাকা পানি মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেডিএ, কেসিসি ও এলজিইডির মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা অমীমাংসিত রয়েছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি, সময় অপচয় ও যানবাহনের বাড়তি ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত যৌথ উদ্যোগ নিয়ে জমি জটিলতা নিরসন, নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ এবং সময়সীমাবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি ও সাইনবোর্ড স্থাপন নিশ্চিত করা হলে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে খুলনার গুরুত্ব বিবেচনায় সোনাডাঙ্গা বাইপাসের দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন নগরবাসী।