সংবাদ শিরোনাম

নাভিশ্বাস স্বল্প আয়ের মানুষের --গ্যাসের বাজারে অচলাবস্থা, কাঠে জ্বলছে চুলা

 প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন   |   খুলনা

নাভিশ্বাস স্বল্প আয়ের মানুষের --গ্যাসের বাজারে অচলাবস্থা, কাঠে জ্বলছে চুলা

মাসুদ আল হাসান, খুলনা ব্যুরো :

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা বাড়লেও আমদানি কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো খুলনায়ও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন হোটেল-রেস্টুরেন্টের মালিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের মানুষ।

খুলনা মহানগরী ও আশপাশের জেলা উপজেলায় অনেক দোকানে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একজন ডিলারের কাছে গ্যাস মিললেও নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে আবার জ্বালানি কাঠের দিকে ঝুঁকছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তথ্যমতে, দেশে প্রতিবছর ১০ শতাংশের বেশি হারে এলপিজির চাহিদা বাড়ে। কিন্তু সেই অনুযায়ী আমদানি না বাড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে দাঁড়ায়। তবে সর্বশেষ বছরে আমদানি নেমে আসে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম।

বিশেষ করে বছরের শেষ তিন মাসে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ ভেঙে পড়ে। বছরের শেষে যে মজুত থাকার কথা ছিল, তা আগেই বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিইআরসি জানায়, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স রয়েছে ৫২টি কোম্পানির। তবে নিয়মিত আমদানি করছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে অনেক প্রতিষ্ঠান তা বন্ধ রাখে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও সংকট রয়েছে। ইরান থেকে সরবরাহ বন্ধ, চীনের মতো বড় ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা বহু জাহাজের কারণে এলপিজি আমদানি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে।

খুলনার দৌলতপুর এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মো. শামীম বলেন, “আগে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতাম ১,২৫০ টাকায়, এখন দিতে হচ্ছে ১,৫৫০ টাকা। এভাবে চললে ছোট ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।”

অন্যদিকে গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানি কাঠের চাহিদা ও দামও বেড়েছে। কাঠ ব্যবসায়ীরা জানান, মণপ্রতি কাঠের দাম আগের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ভোক্তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির দাম যেন ইচ্ছেমতো বাড়ানো না হয়, সে জন্য সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ—এমন আশঙ্কাই এখন সবার।