সংবাদ শিরোনাম

এনসিটি ইজারা: ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে বন্দর অচল হওয়ার শঙ্কা

 প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন   |   খুলনা

এনসিটি ইজারা: ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে বন্দর অচল হওয়ার শঙ্কা

;প্রতিদিনের দেশ ডেস্ক :

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিদেশি কোম্পানির কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচিতে গড়িয়েছে। সিদ্ধান্ত বাতিলের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় এবং আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের বদলি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মসূচি পালন করছিলেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার তৃতীয় দিনের কর্মসূচি চলাকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর শ্রমিকদল নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলন দমাতে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্যেই অন্যায়ভাবে ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।

অবিলম্বে এসব বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান এবং বন্দরের পরিআচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের অপসারণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন শুরুর পর গত শনিবার প্রথম দফায় চার কর্মচারীকে পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়। এরপর রোববার পৃথক দুই আদেশে আরও ১২ জনকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে বদলি করা হয়। বদলিকৃতদের আজ সোমবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হলেও কেউই সেখানে যোগ দেননি। বরং তারা আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনে’ এসব বদলি করা হয়েছে। তবে পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।

উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১ ফেব্রুয়ারি  শনিবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলার কথা রয়েছে। মঙ্গলবারের টানা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য খালাস ও জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।