হালদা অববাহিকার মানিকছড়ি অংশে তামাক চাষ বন্ধ মৎস্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ
ঢাকা, ২৬ মাঘ (৯ ফেব্রুয়ারি):
চলতি বছর হালদা অববাহিকার মানিকছড়ি অংশে তামাক চাষ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ করা হয়েছে। গত বছর এ অঞ্চলে ১১ জন তামাকচাষির প্রায় ২০ একর জমিতে তামাক চাষের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছিল। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে এ বছর তামাক চাষ বন্ধ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকাজে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক এবং হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক কার্পজাতীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র ও মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর পানি দূষণের অন্যতম কারণ। তামাক চাষ বন্ধ হওয়ায় হালদা নদীর মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজের বিদ্যমান গেজেট সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। উক্ত প্রজ্ঞাপনে হালদা অববাহিকা অঞ্চলে তামাক চাষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত খাগড়াছড়ি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় হালদা অববাহিকা অঞ্চলে তামাক চাষ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট তামাকচাষিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি অবহিত করে এবং তামাকের চারা রোপণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ প্রদান করে। উল্লেখ্য, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সাধারণত তামাকের চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উক্ত এলাকার কৃষকদের বিকল্প ফসল যেমন সরিষা, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ভবিষ্যতে হালদা অববাহিকায় তামাক চাষ যাতে পুনরায় শুরু না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। হালদা নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।