ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, মিলেছে ফরেনসিক প্রমাণ: মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে আজই চার্জশিট

অনলাইন ডেস্ক
২৫ মে ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

ঢাকা

ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, মিলেছে ফরেনসিক প্রমাণ: মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে আজই চার্জশিট

মহানগর ডেস্ক:

​রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অবশেষে চূড়ান্ত ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিশ্চিত করেছে যে, মৃত্যুর ঠিক আগেই শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। শনিবার সিআইডির পক্ষ থেকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের মাধ্যমে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে এই ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামি সোহেল রানাই শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করেছিলেন। আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত এই প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আজ রোববারই আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

​তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর নিজের অপরাধ ঢাকতে তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘাতক। পাষণ্ডতার এখানেই শেষ ছিল না, মৃত্যুর পর রামিসার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়, যা পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এই নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে মামলার সমস্ত ডকেট ও অভিযোগপত্রের ড্রাফট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সরকার ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী আজ রোববারের মধ্যেই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করার প্রক্রিয়া চলছে, যা দ্রুততম সময়ে বিচার কাজ শুরু করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

​এর আগে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে দেওয়া সেই জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, ঘটনার আগে তিনি অতিমাত্রায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন। মাদকাসক্ত অবস্থায় তিনি শিশু রামিসার ওপর চড়াও হন এবং ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে করাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং একই দিনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃত তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

​এই স্পর্শকাতর মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই জোরদার করতে সরকার ইতিমধ্যেই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক আদেশে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে এই মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকার চাইছে কোনো লুপহোল ছাড়াই যেন অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

​আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আসন্ন ঈদের ছুটির পরপরই বিশেষ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুরু হবে। প্রথম পাতার এই প্রধান সংবাদটি এখন দেশজুড়ে শিশু সুরক্ষার দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অপেক্ষায় রয়েছে নিহতের পরিবার ও ক্ষুব্ধ দেশবাসী।