দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম চলছে -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা, ৪ আশ্বিন (১৯ সেপ্টেম্বর):
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম চলছে।
আজ ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে পোনামাছ অবমুক্তকরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চাষির সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আসবেন। খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হয়।
মাছের খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয়ও কমছে। তিনি বলেন, মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে খামারিরা মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি আরো জোরদার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক, চিড়িয়াখানার কিউরেটর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনামাছের মধ্যে রয়েছে- ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অধীনে ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এ কর্মসূচির আয়োজন করে।