ঢাকায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

জাতীয়

ঢাকায় ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু কয়েকটি পরিচিত গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে বৈচিত্র্যময় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার অনন্য বৈশিষ্ট্য। এসব সম্ভাবনাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এনে একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনশিল্প গড়ে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ ও গন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করে একটি Tourism Master Plan প্রণয়নের কাজ চলছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটনসম্পদ চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে অবকাঠামো, সেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন করা হবে।

পর্যটনমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো, বিনোদন, সেবা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন পর্যটন নীতিমালায় বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি Public-Private Partnership (PPP)-কে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল, আধুনিক অবকাঠামো, মানসম্মত সেবা, কার্যকর প্রচার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পর্যটন ব্যবস্থাপনা।

এদিকে ঢাকায় আয়োজিত এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা অংশ নিয়েছে। প্রায় ৩০০টি স্টলে বিভিন্ন দেশের পর্যটন গন্তব্য, পণ্য, সেবা এবং বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হচ্ছে।

মেলায় পর্যটন খাতের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইনস ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া নেপাল, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।