ধানমন্ডির দু’টি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
ঢাকা, ২ আশ্বিন (১৭ সেপ্টেম্বর):
আজ ঢাকায় সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ (আবাহনী মাঠ নামে পরিচিত) ও ধানমন্ডি মাঠ দু’টি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশোলী মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মোঃ দৌলতুজ্জামান খাঁন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের; যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা এসব মাঠকে কেবল একটি নির্দিষ্ট খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তর করা হলে মাঠগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য রাজধানীর খেলার মাঠগুলোতে সর্বস্তরের মানুষের জন্য খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা। যা শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে ক্লাবগুলোর রাজনীতিকীকরণ দূর করে নিরপেক্ষ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো তৈরি করা এবং মাঠগুলোকে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের জন্য উন্মুক্ত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ধানমন্ডি মাঠে আর্চারি ও শুটিংয়ের পরিকাঠামো এবং আবাহনী মাঠের খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা সংস্কার করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পিপিপি মডেলে এই উন্নয়ন কাজ শুরুর পর ঢাকার অন্যান্য গণপূর্ত মাঠগুলোকেও পর্যায়ক্রমে একইভাবে আধুনিকায়ন করা হবে। তৃণমূলের প্রকৃত প্রতিভা অন্বেষণে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ১০টি ইভেন্টে দল গঠন করা হচ্ছে। দ্বিতীয় আসরে ইতোমধ্যে ১৫ লাখেরও বেশি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে, যা ২০ লাখে পৌঁছাবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি মাঠে আবাহনী প্রাক্টিস ও ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছর মাঠ দু’টি সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করবে। পরবর্তীতে উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এই চুক্তির মেয়াদ নবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ হাসানসহ উভয় মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ।