লেকের দূষণ ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন

জাতীয়

লেকের দূষণ ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ছবি- পিএমও

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি এলাকার লেকগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাজধানীর লেকগুলোর দূষণ পরিস্থিতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর চলমান কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, দূষণের উৎস এবং সম্ভাব্য সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, তলদেশের স্লাজ অপসারণ এবং চলমান পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

গুলশান লেকে দূষণের ১২ প্রবেশপথ শনাক্ত

বৈঠকে জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য ও দূষিত পানি প্রবেশের জন্য ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পথ বন্ধ করতে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ বৈঠকে উপস্থাপন করে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমেই পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করার পাশাপাশি ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপনের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ জরিপ করে ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গুলশান ও বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায়ের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পানি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়ও আলোচনায় আসে।

বাড়বে বর্জ্য অপসারণে যান্ত্রিক নৌকা

লেকের পানিতে ভাসমান বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বর্তমানে ব্যবহৃত দুটি যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী যেসব ভবনে এসটিপি স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ভবনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন কিংবা লেকের সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সুপারিশ করা হয়। এ কাজে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

পানির মান উন্নয়নে এরেটর ও স্লাজ অপসারণ

লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ কমাতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

এদিকে রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে কাজ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।