আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়েই আমাদের চেষ্টার প্রতিফলন দেখবেন - বাণিজ্যমন্ত্রী
সিলেট, ৭ ফাল্গুন (২০ ফেব্রুয়ারি):
বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ শুরু করেছি। আগামী দিনে কাজের মধ্য দিয়েই আমাদের চেষ্টার প্রতিফলন দেখবেন।
আজ সিলেটের দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ) মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত দেড় দশকে দেশের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও ইকোসিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, অর্থনীতির মধ্যে গতি সঞ্চারের উদ্দীপনা থাকে, তা ছিল না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই উদ্দীপনা ছিল অনুপস্থিত।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি বিকাশমান অর্থনীতির দেশ। এখানে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ লোক কাজের বয়সে প্রবেশ করে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য যে বিনিয়োগের দরকার তা হয়নি। ১২-১৩ বছর সেই বিনিয়োগ স্থবিরতা ছিল। গত তিন বছর সেই স্থবিরতা প্রকট আকার ধারণ করে, বিনিয়োগ ছিল শূন্যের কোঠায়।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা ইতোমধ্যে এলডিসি ডেফারের জন্য চিঠি দিয়েছি। ট্যারিফ স্ট্রাকচার পরিবর্তনের কারণে আমাদের অনেক প্রতিষ্ঠান চাপে আছে। বিগত সময়ে নানা কারণে শিল্পের যথাযথ বিকাশ হয়নি। এ সময় বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সিলেটের জন্য বিশেষ কী পরিকল্পনা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, সিলেটের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা বিশেষ করে মাদক, পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বহু চ্যালেঞ্জ আছে, এগুলো সঠিকভাবে এড্রেস করতে চাই। সিলেটবাসীসহ দেশের মানুষের জন্য গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।
বন্ধ শিল্প কারখানা দ্রুত চালু হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা শিল্প কারখানা দ্রুত চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সাথে বসে পরিকল্পনা করবো। কাজের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করবো।
পরে মন্ত্রীদ্বয় হযরত শাহপরান (রহ) ও গাজী বুরহান উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং ইসলামনগর মসজিদে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।