মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

 প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ৭ ফাল্গুন (২০ ফেব্রুয়ারি): 

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আগামীকাল মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে নিম্নোল্লিখিত বাণী প্রদান করেছেন:

“আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। স্মৃতিবিজড়িত এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মাতৃভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা শহিদদের। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগণ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

মহান ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই অংশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে। নিজ মাতৃভাষার অধিকার হরণের এই অন্যায় সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের জনগণ। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আদায় করে নেয় মাতৃভাষার অধিকার। আমাদের নিজস্ব জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। মূলত ভাষা আন্দোলন ছিল নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলন। আমাদের স্বাধিকার, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অমর একুশের চেতনাই যুগিয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা ও অসীম সাহস।

১৯৯৯ সালে শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। জাতি হিসেবে এটি আমাদের অন্যতম গৌরবময় অর্জন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস।

ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান ধারক ও বাহক। অনেক ত্যাগ ও শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও মান সংরক্ষণে তাই আমাদের আরো যত্নবান হতে হবে। উন্নত বিশ্বের সাথে সমানতালে এগিয়ে যেতে বাংলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন ভাষার ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একটি সমৃদ্ধ জাতি ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন ইতিবাচক অবদান রাখবে এই প্রত্যাশা করি।

মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত হোক, দেশ ও জাতির কল্যাণ নিশ্চিত হোক- মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ কামনা করি।”