ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
ঢাকা, ১৫ মাঘ (২৯ জানুয়ারি):
বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগের আওতাধীন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং গাম্বিয়ার দু’টি প্রতিষ্ঠানমিনিস্ট্রি অব পাবলিক সার্ভিস, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস, পলিসি কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড ডেলিভারি ও মিনিস্ট্রি অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড ডিজিটাল ইকোনমি তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-গভর্নেন্স সহযোগিতা সম্প্রসারণে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। গত বছর গাম্বিয়া বাংলাদেশের মাইগভ প্ল্যাটফর্ম গ্রহণের মধ্য দিয়ে যে অংশীদারিত্বের সূচনা হয়েছিল, এই চুক্তির মাধ্যমে তা আরো এগিয়ে নেওয়া হলো।
আজ ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা: আব্দুর রফিক, হেড অফ প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিমসহ এটুআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
অন্যদিকে, গাম্বিয়া প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মিনিস্ট্রি অব পাবলিক সার্ভিস-এর স্থায়ী সচিব পাতেহ জাহ। প্রতিনিধিদলে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়, পাবলিক সার্ভিস মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ ও ডিজিটাল অর্থনীতি মন্ত্রণালয়, ন্যাশনাল রেকর্ডস সার্ভিস, গাম্বিয়া আইসিটি এজেন্সি, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলস ডিপার্টমেন্ট, সেন্ট্রাল ব্যাংক অব দ্য গাম্বিয়া এবং পাবলিক ইউটিলিটিজ রেগুলেটরি অথরিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দুই দেশের এ উদ্যোগ ‘গ্লোবাল সাউথ’ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। জনবান্ধব জনসেবা প্রদানে উপযোগী সল্যুশন গড়ে তোলার দিকে উভয় দেশই এগিয়েছে যা সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।
আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী নাগরিক অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল সিস্টেমের গুরুত্ব তখনই পায় যখন তা সহজে সেবা প্রদান করে। প্রক্রিয়ার শেষে নাগরিক কী পাচ্ছেন, কত দ্রুত, কত সহজভাবে এবং কতটা ন্যায্যভাবে সেবা দেওয়া হচ্ছে; সেই বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।
গাম্বিয়ার স্থায়ী সচিব পাতেহ জাহ বলেন, আমাদের সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে সরাসরি শেখা। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে দেখতে এসেছি কাজ কীভাবে হয়, ই-গভর্নেন্স সিস্টেম কীভাবে তৈরি ও পরিচালিত হয়, আর কীভাবে এগুলো মানুষের কাজে লাগে। এই এমওইউ আমাদের শেখার এ ধারাকে কাঠামোবদ্ধ করবে এবং দেশে ফিরে তা বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে সহায়তা করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সমঝোতা স্মারকটি উভয় দেশের ভিন্ন অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় রাখলেও কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে জনসেবা প্রদান। অন্যদিকে গাম্বিয়ার লক্ষ্য হলো কাগজপত্র নির্ভরতা কমিয়ে, দপ্তরে দপ্তরে ঘোরাঘুরি ও সময় অপচয় হ্রাস করে নিয়মিত আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সহজতর ডিজিটাল ধারায় নিয়ে আসা।