সংবাদ শিরোনাম

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

 প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে     -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

ঢাকা, ১৩ মাঘ (২৭ জানুয়ারি):  

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয়। এটি একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ইস্যু, যেখানে সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।

আজ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ -এর কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচার করা হয়েছে যে - তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। তিনি বলেন, এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তামাক কোম্পানির টাকায় দেশ চলে—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এই যুক্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও সে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না। তামাক কোম্পানি কত রাজস্ব দেয়,  সেটি আলোচনায় আসে, কিন্তু তামাক ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্য ব্যয় ও সামাজিক ক্ষতি হচ্ছে, তা আড়াল করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি শেয়ার থাকা তামাক কোম্পানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মানুষের মৃত্যু ঘটায়—এমন কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার রাখার যৌক্তিকতা নেই। বরং এসব কোম্পানিকে নিষ্ক্রিয় করে জনগণের ক্ষতি রোধ করাই সরকারের দায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রণয়ন নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সেই রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে বলেও তিনি জানান।

আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্তত এই সরকারের সময়েই কার্যক্রম শুরু করা গেলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো তা এগিয়ে নিতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যারা সত্যিই জনগণের কল্যাণ চায়, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানাতে হবে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মোঃ আবু জাফর-সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।