সংবাদ শিরোনাম

গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো একটি বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে- পরিবেশ উপদেষ্টা

 প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন   |   জাতীয়

গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে  প্রথমবারের মতো একটি বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে- পরিবেশ উপদেষ্টা

ঢাকা, ১৩ মাঘ (২৭ জানুয়ারি):

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো একটি বাস্তবভিত্তিক অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দেশের ৫৪ বছরের বাস্তবতায় আমরা পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরভাবে খুব কম কাজই করেছি। এই বাস্তবতার ঊর্ধ্বে উঠে এবারের উদ্যোগ সফল করতে চালকদেরকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।

  আজ ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’-এর আওতায় ঢাকায় তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক/শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দ দূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, হর্ন ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় গাড়ি চালকদের। দেশে শতকরা ৬৫ ভাগ গাড়িচালক কানে কম শোনেন। সমস্যার গভীরতা তাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে। তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিআরটিসির অধিকাংশ বাস থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমন হওয়া অগ্রহণযোগ্য। আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন দ্রুত বন্ধ করতে বিআরটিএ ও বিআরটিসির প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার আওতায় এবার পরিবেশ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ট্রাফিক সার্জেন্টরা রাস্তায় থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে জরিমানাও করতে পারবেন।

উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে নিজের সবচেয়ে বড় গ্লানি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে অথচ তা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। নতুন বিধিমালার আওতায় চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণে গাড়ি চালানোর দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য চালকদের লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়) শেখ মইনউদ্দিন বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবহন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এই খাতটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। বর্তমান সরকার এ খাতকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো চালকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।