গুজব প্রতিরোধে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের পরামর্শ তথ্য সচিবের
ঢাকা, ১২ মাঘ (২৬ জানুয়ারি):
গণভোট সম্পর্কিত জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও অগ্রণী ভূমিকা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। তিনি বলেন, আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও গণভোট সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়াতে জেলা তথ্য অফিসগুলো ক্লান্তিহীন প্রচার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নির্বাচন পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এ প্রচার কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০ জন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
তথ্য সচিব আজ বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য জেলা তথ্য অফিসারদের নিয়ে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরামর্শ দেন ।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনলাইন জুম প্লাটফর্মে দেশের ৬৪টি জেলা তথ্য অফিস ও ৪টি উপজেলা তথ্য অফিসের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইয়াসিন, যুগ্ম সচিব মাহফুজা আখতার ও রিয়াসাত আল ওয়াসিফ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন, সৈয়দ এ মু’মেন ও ডালিয়া ইয়াসমিন এবং উপপরিচালক কাজী শাম্মীনাজ আলম ও গাজী শরিফা ইয়াছমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল বলেন, জেলা পর্যায়ে তথ্য অফিসগুলো গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের সর্বস্তরের ভোটারদের মধ্যে ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে আচরণবিধি মেনে চলতে মোটিভেশন চালানো হচ্ছে। তিনি জানান ইতোমধ্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচি-উঠান বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ভোটালাপ, সড়ক প্রচার, মাইকিং, ভোটের রিকশা, সংগীতানুষ্ঠান নির্বাচনি প্রচারণায় জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভবিষ্যতে এই প্রচার কার্যক্রম আরো সুসংগঠিত, কার্যকর ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার সচিব বলেন, বর্তমান সময়ে অপতথ্য ও গুজব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, গুজব ও অপতথ্যের ছড়াছড়ি ততই বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। যে কোনো গুজব/অপতথ্য দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পরিচালিত নির্বাচন সেলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, শহরাঞ্চলের ভোটাররা তুলনামূলকভাবে গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সচেতন হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম আরো বিস্তৃত ও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উঠান বৈঠক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটালাপ এবং ‘টেন মিনিটস ব্রিফ’—এ তিনটি কার্যক্রম গণভোট বিষয়ে জনগণের কাছে সরাসরি ও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম। এসব কর্মসূচির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।