গণভোট ও নির্বাচনের জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে --- তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা
ফরিদপুর, ৭ মাঘ (২১ জানুয়ারি):
তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোট ও নির্বাচনের জন্য আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারের রয়েছে জাতীয় পর্যায়ে, প্রশাসনের স্থানীয় পর্যায়ে। সবচাইতে বড় কথা রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের জন্য প্রস্তুত; ভোটাররা প্রস্তুত।
আজ ফরিদপুরে অম্বিকা অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে আয়োজিত জনসভায় বক্তৃতাকালে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা ভোটের ব্যাপারে জনমনে উৎসাহের কথা জানিয়ে বলেন, এ পর্যন্ত যে পাঁচটা জেলায় আমি গিয়েছি, সব জেলাতেই মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার ব্যাপক আগ্রহ দেখেছি। তার একটা বড় কারণ হচ্ছে সরকার নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আরেকটা অনেক বড় কারণ হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান আরো বলেন, আজকে আমরা এমন একটা সময় দাঁড়িয়ে আছি যখন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আর বিগত ৫৪ বছরের বাংলাদেশের একটা সংযোগ আমাদেরকে স্থাপন করতে হবে এবং সেই সংযোগটা করতে হবে এত বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে। ঐক্য, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর এই সব কিছুর জন্যই গণভোটে হ্যাঁ-তে মত দিতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, ১২ তারিখে দুইটা ভোট দিতে হবে। একটাতে আপনার এলাকার যোগ্য সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন। মনে রাখতে হবে, ভোট শুধু অধিকার নয়, ভোট মানে দায়িত্বও। আর এবারের গণভোট মানে দেশের পদ্ধতি বদলের সুযোগ। শুধু ব্যক্তি বদলালে দেশ বদলায় না। পদ্ধতি বদলাতে হবে যাতে যে কেউ ক্ষমতায় আসুক, সে যেন দানব হয়ে উঠতে না পারে। কিছু কিছু পরিবর্তন সংবিধানে আনতে হবে যাতে সংবিধানের ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’-কথাটি স্বার্থক হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় লামিয়া মোরশেদ বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে এই রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এবং সংস্কার আনতে পারেন আপনারাই। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করেছে। এবার সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে আপনাদের মতামতের জন্য গণভোটের আয়োজন করেছে। নির্বাচিত সরকারকে এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। এখন দেশের ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতে।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, এবারের গণভোটের বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে আপনাদের জানানোর জন্য প্রতিটি বিভাগ এবং জেলায় আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য আমরা পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ৪৯৫টি উপজেলায় এবং ৪ হাজার ৫০০টি ইউনিয়নে আমরা ভোটের রিক্সা চালু করছি। এগুলোর মাধ্যমে রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে বোঝানো হবে, পরিবর্তনের জন্য আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। ‘হ্যাঁ’ বলার কোনো বিকল্প নেই, কারণ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা আমাদের প্রায় ১৬শ’ সন্তান এবং নাগরিকের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি।
এর আগে উপদেষ্টা গণভোটের প্রচার ও ভোটের উদ্বুদ্ধকরণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। র্যালি শেষে ভোটের গাড়ির স্ক্রিনে প্রধান উপদেষ্টার গণভোট বিষয়ক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।