গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ঠেকাতে কঠোর বার্তা সিসির
ছবি-সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। বুধবার কায়রোয় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ অবস্থান জানান। তাঁর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছিলেন, গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘কাজ শেষ করবে’ এবং এরপর ‘অভিবাসন পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হবে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (Wafa) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে সিসি ‘ফিলিস্তিনি জনগণকে বাস্তুচ্যুত করা কিংবা ফিলিস্তিনের জাতীয় অধিকার ও প্রশ্নকে নিশ্চিহ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মিসরের দৃঢ় অবস্থান’ তুলে ধরেন।
আব্বাস এ সময় ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় মিসরের অবিচল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আবারও বলেন, ‘গাজা আমাদের রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
সিসির বক্তব্য আসে কাটজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বুধবার বলেন, গাজায় সেনাবাহিনী ‘কাজ শেষ করবে’, যাতে পরে ‘অভিবাসন পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা যায়’। চলতি মাসের শুরুতে কাটজ বলেছিলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের সমুদ্র ও স্থলপথে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত। তবে কোথায় প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে গাজা থেকে মানুষকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে হাকাবি বলেছিলেন, বাইবেলের নিজের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের বড় একটি অংশ দখল করলেও তাঁর আপত্তি থাকবে না। পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যের একটি অংশ বেছে নিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছিল।
এদিকে গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধের মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপত্যকার প্রায় পুরো জনসংখ্যাই কোনো না কোনো সময় নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে ৭৩ হাজার ৭০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যেই গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করবে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অক্টোবরে কার্যকর হওয়ার সময় গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরিয়ে নেওয়াকে শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইসরায়েল ইতিমধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েল গাজা থেকে পিছু হটবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
একই সময়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আরও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে নেতানিয়াহুর সরকার। এর মধ্যে বিতর্কিত ‘E1’ বসতি প্রকল্প রয়েছে। জেরুজালেম ও মালে আদুমিম বসতির মধ্যবর্তী এলাকায় হাজার হাজার আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রকল্পে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘ফিলিস্তিনিদের সম্মিলিত জীবন’ ভেঙে দেওয়া এবং পুরো এলাকায় স্থায়ী ইহুদি-ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরায়েল একটি পরিকল্পিত ও দ্রুততর অভিযান চালাচ্ছে বলে তারা মনে করে।
গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এই বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই সিসির বুধবারের অবস্থান সামনে এল। মিসর দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরোধিতা করে আসছে এবং গাজাকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে রাখার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে।
সূত্র: আলজাজিরা