আযানের ধ্বনি আমাজনের দেশেও: ব্রাজিলে বাড়ছে মুসলমান ও মসজিদের সংখ্যা
শাহনুর রুমেন ! ব্রাজিল থেকে
ব্রাজিল: দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ Brazil-এ মুসলমানরা এখনো সংখ্যালঘু হলেও দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ও মসজিদ–ইসলামিক সেন্টারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহুসাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সহনশীলতার পরিবেশে ইসলাম আজ ব্রাজিলের সামাজিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন ও কমিউনিটি সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় দেড় শতাধিক (১৫০+) মসজিদ এবং ৭০–৮০টির বেশি ইসলামিক সেন্টার ও নামাজঘর সক্রিয় রয়েছে। বড় শহরগুলোকে কেন্দ্র করে এই ধর্মীয় অবকাঠামোর বিস্তার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানী São Paulo, রিও ডি জেনেইরো, পারানা ও মিনাস জেরাইস অঞ্চলে মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সুসংগঠিত। ইতিহাসের সাক্ষী São Paulo-র ঐতিহ্যবাহী Mesquita Brasil কেবল একটি মসজিদ নয়, বরং ব্রাজিলে ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াহ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠছে নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার, যা প্রবাসী মুসলমানদের ইবাদত ও সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আগত অভিবাসীদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলিয়ান নাগরিকদের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশটির সংবিধানস্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহনশীল সামাজিক পরিবেশ এই বিকাশকে আরও সহজ করেছে। রমজান মাস, জুমার নামাজ ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ইফতার বিতরণ, কোরআন শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলো শুধু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং সমাজসেবার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংখ্যালঘু হয়েও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্রাজিলের মুসলমানরা দেশটির বহুত্ববাদী সমাজে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনসংখ্যা ও মসজিদের সংখ্যা প্রমাণ করছে—দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে ইসলাম ধীরে হলেও সুদৃঢ় ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছে।