সংবাদ শিরোনাম

জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের শক্তিশালী আহ্বান: ন্যায়বিচার, সংস্কার ও বৈশ্বিক সংহতির বার্তা

 প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৮ অপরাহ্ন   |   আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের শক্তিশালী আহ্বান: ন্যায়বিচার, সংস্কার ও বৈশ্বিক সংহতির বার্তা

নিউইয়র্ক,  (বাসস):

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে আজ ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এসময় বৈশ্বিক ন্যায়বিচার, সংস্কার এবং নতুন আন্তর্জাতিক সংহতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অধিবেশনের শুরুতে সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে জাতিসংঘ সনদের ৮০ বছর পূর্তিতে অভিনন্দন জানান তিনি। ইউনূস জাতিসংঘের সাফল্যের প্রশংসা করলেও একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিয়ে বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রূপান্তরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পরিবর্তন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ খুলে দিয়েছে, যা এখন ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিফলিত। প্রধান উপদেষ্টা অবাধ নির্বাচন আয়োজন, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন।

তিনি মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে জানান, দেশটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দিয়েছে এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগ কামনা করে ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সহায়তার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভাষণে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, তরুণদের নেতৃত্বে উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম বণ্টন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সবশেষে তিনি তাঁর ‘তিন-শূন্য বিশ্বের’ স্বপ্ন তুলে ধরেন—শূন্য কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন এবং শূন্য বেকারত্ব। অধিবেশনে বাংলাদেশের উপদেষ্টামণ্ডলী ও প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।