এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ অংশগ্রহণই যেখানে গৌরবের তৃপ্তি

অনলাইন ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ন

খেলাধুলা

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ  অংশগ্রহণই যেখানে গৌরবের তৃপ্তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের জন্য সবসময়ই বড় আসরগুলো সেভাবে পদক জয় হয়না। এশিয়ান অলিম্পিকখ্যাত এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ১৯৭৮ সালে ব্যাংকক এশিয়াড দিয়ে যে যাত্রাটা শুরু হয়েছিল সেটি ৪৮ বছর পরও অব্যহত রয়েছে। চার বছর পর পর আয়োজিত এই আসরের বেশিরভাগই কেটেছে অংশগ্রহনের মধ্যে। এবারো তেমনভাবেই চলছে লাল সবুজ অ্যাথলেটদের পদযাত্রা। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় এবারের এশিয়ান গেমসের জন্য ১৯ কোটি টাকা খরচ করেছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। এত অর্থ খরচ করে মাত্র ৪টি পদকের প্রত্যাশা করছেন কর্মকর্তারা। পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল অংশগ্রহন করা করায় পদকের আশা করছেন অংশগ্রহনকারীরা। তবে থেমে নেই কর্মকর্তাদের প্রমোদ ভ্রমন। বিওএ অর্থ সংকটে ভুগলেও ক্রীড়াবিদদের সাথে পাল্লা দিয়ে দলের সঙ্গী হয়েছেন তারা। অঅন্তর্জাতিক আসরগুলোতে অংশগ্রহনের এই যাতায়াত কবে শেষ হবে সেটার উত্তর এখন জানতে চান ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। পদক জয়ের সম্ভাবনা বিচেনা করার পরও অংশগ্রহেনই সীমাবদ্ধ থাকে লাল সবুজ দেশের অংশগ্রহন। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬ দিনের এই আসরে ৪৫ দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নিচ্ছেন। 

৪৩টি খেলায় ৭১টি ডিসিপ্লিন ও ৪৬৯টি ইভেন্ট। বাংলাদেশ এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহন নিয়মিতই হয়ে থাকে। সেখানে পদকের আক্ষেপের কথা প্রায়শই শোনা যায়। যতটা সম্ভব তার চেয়ে বেশি চেষ্টা করেও পদক জয় করা সম্ভব হয়না। এশিয়ান গেমসে নিয়ম মেনে অংশগ্রহণ আছে, লড়াই আছে, কখনও উজ্জ্বল সাফল্যও এসেছে। কিন্তু ধারাবাহিক পদকের ইতিহাসে এখনও নিজেদের সামিল করতে পারেনি। ১৯৭৮ সালে ব্যাংককে প্রথমবার স্বাধীন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন এক দরজা খুলেছিল এশিয়ান গেমসে নাম লেখানোর মধ্যদিয়ে। পদক না জিততে পারলেও একটি পরিচয় মিলেছিল, এশিয়ার ক্রীড়া মানচিত্রে বাংলাদেশের উপস্থিতি সেবারই জানান দেওয়া সম্ভব হয়েছিল। এরপর ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ থেকে এক আসর পেরিয়ে আর এক আসরে উড়েছে বাংলাদেশের পতাকা। ১৯৮৬ সালে প্রথম পদক আসে বক্সিংয়ে মোশাররফ হোসেনের লাইট হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ জয়ের মাধ্যমে। ব্রোঞ্জ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছিল। এরপর ১৯৯০ বেইজিংয়ে রৌপ্য, ১৯৯৪ হিরোশিমায় রৌপ্য, ১৯৯৮ ব্যাংককে ব্র্রোঞ্জ, ২০০২ বুসানে রৌপ্য এবং ২০০৬ দোহায় আবারও ব্রোঞ্জ পতক জেতে বাংলাদেশ। 

বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ জেতার পর একের পর এক আসরে কাবাডিই টেনে নিয়ে চলল বাংলাদেশের পদকের ঝুলি। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমস ইতিহাসের প্রথমবারের মতো পুরুষ ক্রিকেট দলের হাত স্বর্ণ পদক জয় করে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত সেটাই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র স্বর্ণ পদক জয়।  একই আসরে নারী ক্রিকেটে রৌপ্য এবং নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। প্রথমবারের মতো এক আসরে একাধিক পদক জয়ের কৃতিত্বও দেখায় বাংলাদেশ। চার বছর পর ইনচনেও পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে রৌপ্য এবং নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ জয় করে। তারপরের সময়টা বেশ হতাশার ছিল। ২০১৮ জাকার্তা-পালেমবাংয়ে বাংলাদেশ দল কোনও পদকই জিততে পারেনি। কাবাডিতে পঞ্চম আর হকিতে ষষ্ঠ হয়। ২০২২ হাংঝৌয়ে আবার ক্রিকেটের হাত ধরে দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক এসেছে ১২টি। একটি স্বর্ণ, পাঁচটি রৌপ্য এবং ছয়টি ব্রোঞ্জপদক জিতেছে লাল সবুজ পতাকাধারীরা। এর মধ্যে ১১টিই এসেছে কাবাডি ও ক্রিকেট থেকে। অন্যটি ১৯৮৬ সালের বক্সিং থেকে ব্রোঞ্জ পদক। এশিয়াডের জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি আবারও সামনে এসেছে বেশকিছু পুরনো প্রশ্ন। যারা যাচ্ছেন কেন যাচ্ছেন আর কী যোগ্যতা নিয়ে যাচ্ছেন সেটাও ভাববার বিষয়। বিওএর নতুন কমিটি হলেও পুরনো তালিকায় যেন চলছে সব। সব মিলিয়ে কিছু বিষয় নিয়ে বিওএ এবং ফেডারেশনগুলির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদককে দলের  কোচ হিসেবে পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো অজানাই থেকে যাবে।