আম্পায়ার ও কোচিং পরীক্ষা নিয়ে বিসিবির বিড়ম্বনা

অনলাইন ডেস্ক
০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৫ অপরাহ্ন

খেলাধুলা

আম্পায়ার ও কোচিং পরীক্ষা নিয়ে বিসিবির বিড়ম্বনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সমস্যার যেন কোন শেষ নেই। সম্প্রতি মাঠের মতো বাইরের ঘটনা নিয়েও চলছে আলোচনা সমালোচনা। ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে যেমন বেশকিছু বড় সাফল্য এসেছে তেমনি ব্যর্থতার নজিরও তৈরি হয়েছে। টানা চারটি দেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর জিম্বাবুয়ের সফরে গিয়ে ব্যর্থ হয় দল। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর সান্তনা স্বরুপ জিতেছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এখন ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ দল। এই ডামাডোলের মধ্যে দেশের ক্রিকেটে ঘটে গেছে দুটি আলোচিত ঘটনা। জেলা কোচ নিয়োগ দিতে গিয়ে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই অবস্থার মধ্যেই আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের পদত্যাগপত্র গ্রহন করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রা সংস্থাটি। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুত্র ধরে এক বছর আগে পদত্যাগ করেছিলেন আইসিসির এই এলিট প্যানেলের আম্পায়ার। এদিকে জেলা কোচ নিয়োগ দিতে গিয়ে ঘটে যায় এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কোচ হতে পরীক্ষার টেবিলে বসাদের বেশিরভাগই করেছে ফেল। 

পাশাপাশি কোচ হওয়াদের লিখিত পরীক্ষায় দেওয়া উত্তর নিয়ে চারিদিকে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও বিসিবির পক্ষ থেকে কোন ছাড় না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেটে মোহামেডানের খেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিসিবির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন সৈকত। প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের শাস্তির ইস্যুতে বোর্ডের হস্তক্ষেপ ভালোভাবে নেননি আম্পায়ার সৈকত। মূলত ক্ষোভ আর অপমান থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে আর আম্পায়ারিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এরপর বোর্ডকে গত বছরের এপ্রিলের শুরুতেই চিঠি পাঠান। এরপর আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন হৃদয়। পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে আম্পায়ারদের নিয়ে আবারও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করায় তাকে চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়ার পাশাপাশি আরও এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করে দেয়া হয়। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও মোহামেডান অধিনায়ক কিন্তু এক ম্যাচ পরই অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে সুপার লিগের ম্যাচে খেলেন। 

এ ঘটনায় দেশের আম্পায়ারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর প্রতিবাদের সঞ্চার হয়। একটা পর্যায়ে এসে সৈকত পদত্যাগ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি শেষ করার ইঙ্গিত দিলেও সে সময় বিসিবি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত বেতন দিয়ে যায়। নতুন করে এরপর তার সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। আম্পায়ার ও স্কোরার বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যদি চুক্তি নবায়ন না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনা আপনিই আর বেতন পাবে না। এটার মানে এই না যে তার পদত্যাগপত্র গ্রহন করা হয়েছে। চুক্তি নবায়ন না হওয়া মানেই বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। এর আগে বিসিবি জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেছিলেন ২১৮ জন। এর মধ্যে ১৭০ জনের বেশি লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে ৬১টি পদের বিপরীতে প্রাথমিকভাবে পাস করেন মাত্র ৩৯ জন। ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও অধিকাংশ প্রার্থী পাস করতে ব্যর্থ। জেলা পর্যায়ের ৫৯টি এবং ঢাকা মহানগরের দুইটি কোচিং পদের জন্য গত ২৩ ও ২৪ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করেছিল বিসিবি। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা, আর দ্বিতীয় দিন নেওয়া হয় ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) পরীক্ষা। 

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। এ কারণে জেলা পর্যায়ের কোচ নিয়োগের জন্য নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বোর্ড। কোচ নিয়োগ চেয়ে আবারও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। এদিকে লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ হওয়া ৩৮ জনের মধ্য থেকেও অনেকের চূড়ান্ত নিয়োগ এখনও অনিশ্চিত। কারণ তাদের কয়েকজনের ক্ষেত্রেও যোগ্যতার শর্ত পূরণ না হওয়ার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। বিসিবি নির্বাচনে সভাপতি হওয়ার পরপরই নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম ইকবাল। সেই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে ক্রিকেটের উন্নয়নে জেলা পর্যায়ে পরীক্ষার মাধ্যমে কোচ নিয়োগ দিচ্ছে বিসিবি। এজন্য অবশ্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। সেসব মেনে জেলা কোচ হতে সবমিলিয়ে আবেদন পড়েছিল ২১৮টি। আর এখন টিকে আছেন ৩৯ জন। ঢাকায় আবেদনকৃত কোচদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে ১৭০ জনের মতো পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ৩৯ জন।