৪৯তম বিসিএসে বাদ পড়া প্রার্থীদের প্রজ্ঞাপন সোমবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় প্রথম দফার প্রজ্ঞাপনে যেসব প্রার্থীর নাম আসেনি, যাচাই-বাছাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাদের বিষয়ে আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হবে না। বিসিএসসহ সরকারি নিয়োগে নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম নেই
মন্ত্রী জানান, ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে পিএসসির চূড়ান্ত ফলে মোট ৬৬৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।
তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ৫৭ জনের সবাই যে নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন, বিষয়টি এমন নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে প্রথম প্রজ্ঞাপনে প্রকৃত অর্থে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন।
রাজনৈতিক পরিচয়ে বৈষম্য হবে না
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিসিএস বা এ ধরনের সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ ভেরিফিকেশন, মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সনদ জমা দেওয়ার মতো নির্ধারিত কিছু ধাপ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে নিয়োগের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যেন বৈষম্য না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে বিসিএস বা অন্য কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় কাউকে বৈষম্যের শিকার করা হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা নিয়ে সতর্কতা
৪৯তম বিসিএসের প্রথম প্রজ্ঞাপনে কিছু প্রার্থীর নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
তার ভাষ্য, এসব আলোচনা ঘিরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে সবাইকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারেই নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন প্রার্থীর আত্মাহুতির হুমকির প্রসঙ্গও প্রেস ব্রিফিংয়ে আসে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন একবারেই শেষ হয়ে যায় না; প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ধাপে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তিনি জানান, ৪৯তম বিসিএসে যোগদানের তারিখ ১২ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এখনো সময় রয়েছে।
যেসব প্রার্থী প্রথম প্রজ্ঞাপনে স্থান পাননি, তাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ ভেরিফিকেশনে অপরাধের তথ্য যাচাই
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতের দণ্ডের বিষয় থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশনে তা বিবেচনায় আসতে পারে। আইন ও বিধি অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কোনো গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আদালতের দণ্ড থাকলে তা প্রত্যাহার বা আপিলের মাধ্যমে খালাস না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করতে হয়। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ না করতেই এসব যাচাই-বাছাই করা হয়।
এ সময় ৪৯তম বিসিএসে প্রথম প্রজ্ঞাপনে নাম না থাকা প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন----২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর