প্রযুক্তি প্রশিক্ষণে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে দক্ষ করে প্রতিটি পরিবারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে তরুণদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বুধবার (১ অক্টোবর) ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্প’-এর অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
চাকরির বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য শুধু সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতা অর্জন করে ঘরে বসেই আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত তরুণরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারেন। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন।
তবে শুধু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থ ব্যয় করলেই হবে না—প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তরুণরা যাতে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার আহ্বান জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
খেলাধুলায় প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন নিয়েও সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলায় সম্ভাবনাময় প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দরিদ্র ও মেধাবী খেলোয়াড়দের জন্য বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে প্রশিক্ষণ ও ভর্তির সুযোগসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে তরুণদের দূরে রাখার পরিকল্পনা
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহারের আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।
এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম।
স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ও ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
আরো পড়ুন----ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মুহুরী-কহুয়া বাঁধ