সৌদি আরবের সঙ্গে ফ্লাইট ও হজযাত্রী পরিবহন সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা
ছবি-সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ, হজযাত্রী পরিবহন এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনা এবং ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে সৌদি আরবের নতুন রুট চালুর সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবন ধাফের ইবন উবাইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে দুই দেশের বিমান চলাচল, হজযাত্রী পরিবহন, এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (ASA) এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও ইতোমধ্যে সৌদি আরবের General Authority of Civil Aviation-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) হয়েছে।
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের কর-চার্জ নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন কর ও চার্জের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী দ্রুত সমাধানের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
জানা গেছে, ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ২৮ মার্চ ২০২৭ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লটের আবেদন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হজ ২০২৭-এর ফ্লাইট সূচি নির্ধারণে দ্রুত স্লট অনুমোদনের জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়ে অগ্রগতি
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB) বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সংশ্লিষ্ট চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। খসড়া চূড়ান্ত হলে চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে এয়ার সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট (ASA) নিয়ে চলমান কাজের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
চট্টগ্রাম-দাম্মাম সরাসরি ফ্লাইটের সম্ভাবনা
সৌদি এয়ারলাইনস Flyadeal-এর অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বর্তমান সক্ষমতা ও স্লট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে বিকল্প হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এতে ঢাকার ওপর বিমান যোগাযোগের চাপ কিছুটা কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য সৌদি আরব যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
হজ মৌসুমের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সৌদি প্রতিনিধিদল
বৈঠকে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।
সৌদি আরবের General Authority of Civil Aviation-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় এসে প্রস্তুতি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহের বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সৌদি রাষ্ট্রদূত ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরো পড়ুন----মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ