করদাতাদের স্বস্তিতে বড় উদ্যোগ, ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
২৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

জাতীয়

করদাতাদের স্বস্তিতে বড় উদ্যোগ, ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য কর কাঠামো আরও সহনীয় করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের চিন্তা করছে সরকার। আগামী কয়েক অর্থবছরে ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থেকেও সরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মতামত পর্যালোচনার পর এসব বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থ বিল-২০২৬ চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই সংশোধিত কিছু প্রস্তাব আনা হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। পরবর্তী দুই অর্থবছর—২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ সালে এ সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা করা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে এ সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি নিয়েও নতুন করে ভাবছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বিধান কার্যকর হলে নিম্ন ও সীমিত আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থেকে যেতে পারেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যবসা থেকে ব্যবসা (বিটুবি) লেনদেনে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণের যে প্রস্তাব বাজেটে রাখা হয়েছে, সেটি অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

এ ছাড়া স্বর্ণ ও গহনা বিক্রি থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ করহার কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। সরকার এ হার কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় এ খাতে কর কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত অর্থ বিলে করদাতার রিটার্নে উল্লেখিত স্বর্ণ, রুপা, মূল্যবান পাথর, হীরা, শিল্পকর্ম, পুরাকীর্তি, ডিজিটাল মুদ্রা, মুদ্রা সংগ্রহ এবং ক্লাব সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত আয়কে মূলধনি মুনাফা হিসেবে গণ্য করে কর আরোপের বিধান রাখা হয়েছিল।

 

শিক্ষা খাতেও কর ছাড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিদ্যমান ১০ শতাংশ করহার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তবে আবাসন খাতের ডেভেলপারদের জন্য প্রস্তাবিত কর ব্যবস্থায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।