চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করল আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চীন ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল—চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগে যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া।
শনিবার সকালে রাজধানীর বারিধারায় আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে সহযোগিতা করে আপন মিডিয়া ক্লাব, আর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল চীনা দূতাবাস।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বাংলাদেশ-চীন সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক ও গণযোগাযোগ কেন্দ্রের সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের প্রেসিডেন্ট চুয়াং লিফেংসহ দুই দেশের বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের প্রেসিডেন্ট চুয়াং লিফেং বলেন, “চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের অর্ধশতাব্দী উদযাপন এবং প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগের বার্তা প্রচার করতেই আজকের এই আয়োজন। আমরা দুই দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বোঝাপড়া গভীর করা, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক উন্নয়নের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের প্রতীক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও উন্নয়নের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা ও সহযোগিতায় নির্মিত।”
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার সর্বাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “চীন আজ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে সহযোগিতা বাড়িয়ে আমরা সরবরাহ চেইনকে আরও শক্তিশালী করতে পারি। বাংলাদেশের পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়লে পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।”
চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট লিন হাই বলেন, “‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর মাধ্যমে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে এবং পারস্পরিক অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে।”
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, “চীনের বিনিয়োগ প্রবাহ আজ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করছে এক গতিশীল বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও শিল্প উৎপাদন খাতে চীনা বিনিয়োগ হাজারো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।”
চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন বলেন, “চীন ও বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও পুনর্জাগরণের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগের দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় সহযোগিতা গভীর করা এবং উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা অগ্রসর করার মাধ্যমেই আমরা অভিন্ন ভবিষ্যতের সম্প্রদায় গড়ে তুলতে পারব।”
অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় চীনের মহাকাশ অভিযানের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘শেনচৌ–১৩’, যা অতিথিদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। এছাড়া প্রদর্শিত হয় চীন-বাংলাদেশের চলমান সহযোগিতা প্রকল্প এবং চীনের জাপানি আগ্রাসনবিরোধী যুদ্ধ ও বিশ্ব ফ্যাসিবাদবিরোধী যুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকীর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর আলোচিত্র।
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠিত আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বিনিময় জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া, সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।